টঙ্গীতে জুলাই যোদ্ধা’র দোকান দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি ,থানায় অভিযোগ

Spread the love

গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের টঙ্গীতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ মো. আশিক আহম্মেদের দোকান জোরপূর্বক দখলচেষ্টা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটর চালক দল গাজীপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. মিলন হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. সুমন পাটোয়ারী ও মো. জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগী টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে টঙ্গীর চেরাগআলী বেলতলা মাঠ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে চেরাগআলী এলাকায় একটি ঘর নিয়ে ছোট পরিসরে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা শুরু করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আশিক আহম্মেদ। শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার দোকানে প্রবেশ করে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।দোকান ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা দাবি করেন, এই কক্ষটি স্থানীয় মোটর শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ভুক্তভোগী আশিক মানবিক দিক বিবেচনা করে অন্তত কিছুদিন ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের ভেতরের মালামাল থাকা অবস্থাতেই অভিযুক্তরা মোটর শ্রমিক সংগঠনের ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়ে কক্ষটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান। এমনকি অভিযুক্তরা দম্ভোক্তি করে বলেন, প্রয়োজনে এক লাখ টাকা খরচ করেও তোমাকে এখান থেকে উচ্ছেদ করা হবে। এ ঘটনার পর থেকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থান চলাকালে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন আশিক আহম্মেদ। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়ার পর অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। সেই প্রাণঘাতী গুলির ক্ষত চিহ্ন তিনি আজও বহন করে চলছেন; বুক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া সেই গুলিতে অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে গেলেও সাথে থাকা তার সহকর্মী মারা যান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মোটর চালক দল গাজীপুর মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. মিলন হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *