নালিতাবাড়ী-হালুয়াঘাট সড়ক খানাখন্দের ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

Spread the love

উসমান ফারুক-স্টাফ রিপোর্টার

শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা শহরে সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে রয়েছে। কোথাও বড় বড় খানাখন্দ, কোথাও আবার পিচ উঠে গিয়ে কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে সড়ক। সবচেয়ে বড় নাজুক অবস্থায় রয়েছে নালিতাবাড়ী-হালুয়াঘাট সড়ক।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন নালিতাবাড়ী-হালুয়াঘাট সড়কটি নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কালাপাগলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে পাথর, খোয়া ও বালি। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে কয়েক দিন ধরে পানি জমে থাকে। এতে যান চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পানির কারণে গর্তের গভীরতা বোঝা না যাওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় যানবাহন দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বলেন, নালিতাবাড়ী পৌরশহরে প্রবেশের আগে উঁচা ব্রিজ, শেহড়াতলী ও ভালুকাকুড়া এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

অটোরিকশা চালকরা বলেন, ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই যানবাহন নষ্ট হয়ে যায়। মেরামতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় আয়ও কমে গেছে। শিক্ষার্থীরাও জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের কয়েকটি বড় গর্তে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছিল। তবে সেগুলোও এখন সরে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি সংস্কার করা না হলে এটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

এলজিইডির নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শরাফ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নালিতাবাড়ী বাজার থেকে নির্মাণাধীন সেতু পর্যন্ত অংশের জন্যও পৃথক একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *