নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর।
গাজীপুরে যথাযোগ্য গুরুত্বের সঙ্গে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস-২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— “নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান—টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি”।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
সভায় গাজীপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ আর্থসামাজিক তথ্য-উপাত্ত, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কার্যক্রম এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, গাজীপুরের উপপরিচালক মাহনুমা রহমান।
বক্তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই। সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও জনকল্যাণমুখী করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতি মূল্যায়নেও পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে চারটি পৃথক পরিসংখ্যান সংস্থাকে একীভূত করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি দেশের জনমিতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকের তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ ও প্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান কমিশনের উদ্যোগে ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস পালিত হয়। পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং গুণগত তথ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশেও জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস পালনের মূল লক্ষ্য হলো পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে তথ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সম্পৃক্ত করা। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।