মো: ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি।
প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। ষড়ঋতুর নিয়মে বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে শুভ্র মেঘের ভেলা ভাসলেও, প্রকৃতির বুকে বর্ষার স্নিগ্ধ ছোঁয়া ও সবুজ সজীবতার রেশ এখনও রয়ে গেছে। আর সেই স্নিগ্ধতার রঙ আরও গাঢ় করে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা বিলে ফুটতে শুরু করেছে রক্তকমল বা লাল শাপলা। বিস্তীর্ণ বিলের জলে লাল শাপলার এই রূপের জাদুতে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
কালীগঞ্জ-বক্তারপুর সড়কের পাশে অবস্থিত ভাটিরা গ্রামের এই বিলটির জলরাশি এখন ভেসে থাকা রক্তিম পাপড়ির হাসিতে রঙিন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বিলের জলে প্রস্ফুটিত লাল শাপলার নজরকাড়া সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগে থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। কর্মব্যস্ত পথচারীরাও ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অপার দান। অনেকে আবার লাল শাপলার সঙ্গে নিজেকে ফ্রেমে বন্দি করছেন ক্যামেরায়।
সম্প্রতি লাল শাপলা হাতে প্রকৃতির এই রূপ উপভোগ করতে দেখা যায় কালীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী ওমর ফারুককেও।
উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, লাল শাপলা (বৈজ্ঞানিক নাম: Nymphaea rubra) নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বেশি জন্মায়। এটি কেবল দেখতেই আকর্ষণীয় নয়, বরং জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লাল শাপলা জলাশয়ের পানি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখে। শুধু তা-ই নয়, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ শাপলার ডাঁটা সুস্বাদু ও জনপ্রিয় সবজি হিসেবেও কদর পায়। পাশাপাশি এর রয়েছে বিভিন্ন ওষধি গুণাগুণ, যা নানা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে।
ভাটিরা বিলের এই লাল শাপলার অপরূপ রূপ দেখতে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সংরক্ষণ করা গেলে এবং বিলে অপচয় ও বিনাশ বন্ধ করা সম্ভব হলে কালীগঞ্জের ভাটিরা বিল হয়ে উঠতে পারে অন্যতম আকর্ষণীয় এক পর্যটন কেন্দ্র।