গাজীপুরে ডিজিটাল ও দুর্নীতিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অনুকরণীয় উদ্যোগ

Spread the love

বিশেষ প্রতিবেদক, গাজীপুর।

গাজীপুর জেলাকে একটি আদর্শ, স্বচ্ছ এবং শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।

অতি সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্নীতি, অনিয়ম, দাপ্তরিক কাজে অবহেলা এবং দালালের মাধ্যমে সরকারি কাজ করানোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সেখানকার ৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নূরুল কবির ভূঁইয়া। জেলা প্রশাসকের এই বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের পর পুরো জেলার ভূমি অফিসগুলোতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

জেলা প্রশাসকের এই কঠোর ও দক্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিস বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কাপাসিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মো. নাহিদুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. বাবলু মিয়ার দক্ষ ও সততাভিত্তিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ই-নামজারি (খারিজ), ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়সহ যাবতীয় ভূমি সেবা মিলছে কোনো প্রকার অতিরিক্ত অর্থ বা দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই।

সরেজমিনে টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুরে এবং সেবাগ্রহীতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে সরকারের নির্ধারিত ১,১৭০ টাকা ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না। আবেদন থেকে শুরু করে ডিসিআর (DCR) এবং খতিয়ান সরবরাহ—সবই হচ্ছে সম্পূর্ণ অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে। কোনো নগদ অর্থের লেনদেন না থাকায় দালাল চক্রের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটেছে এই কার্যালয়ে। সম্প্রতি কিছু অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভূমি অফিস ও ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ বাবলু মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও অবৈধ সুবিধাভোগী দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাবলু মিয়া সরকারি নিয়মনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ফলে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখায় ওই চক্রটি কোনো প্রকার অনৈতিক সুবিধা বা অবৈধ সুবিধা হাসিল করতে পারেনি।
নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে এবং ভূমি অফিসের এই ইতিবাচক পরিবর্তন সহ্য করতে না পেরে তারা কর্মকর্তা বাবলু মিয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালাচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া উপজেলার বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মো. নাহিদুল হক যোগদানের পর থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—ভূমি অফিস হবে শতভাগ হয়রানিমুক্ত এবং জবাবদিহিতামূলক। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণেই টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. বাবলু মিয়া সরকারের নিয়ম নীতি কঠোরভাবে পরিপালন করতে পারছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাম্প্রতিক অ্যাকশন পুরো জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের ইতিবাচক আতঙ্ক তৈরি করেছে অসাধুদের মনে, আর সৎ কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়িয়েছে। টোক ভূমি অফিসের কাজের স্বচ্ছতাই প্রমাণ করে যে তারা সঠিক পথে আছেন। যারা নিয়ম বহির্ভূত সুবিধা না পেয়ে মিথ্যা ছড়াচ্ছে, তাদের আইনি আওতায় আনা উচিত।

এ বিষয়ে টোক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. বাবলু মিয়া বলেন, মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মো. নাহিদুল হক স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল ভূমি সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের নির্ধারিত ১,১৭০ টাকার বাইরে এখানে একটি টাকাও বাড়তি নেওয়ার সুযোগ নেই। যারা নিয়মবহির্ভূত সুবিধা না পেয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের এই অপচেষ্টা এ কার্যালয়ের জনকল্যাণমুখী কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দক্ষ নির্দেশনায় এবং বাবলু মিয়ার মতো সৎ কর্মকর্তাদের নিষ্ঠায় গাজীপুরের ভূমি সেবা খাত এখন জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই স্বচ্ছতা কাপাসিয়ার তথা সমগ্র জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসের জন্য একটি অনুসরণীয় মডেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *