নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকার কামরাঙ্গাচালা এখন যেন অপরাধীদের অভয়ারণ্য। পরিকল্পিতভাবে এক যুবককে অপহরণ, বেধড়ক মারধর, ছিনতাই ও লাগাতার চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৩) অভিযোগ করে জানান, এটিএম বুথ থেকে বেতনের টাকা তুলে বাসায় ফেরার পথেই তাকে টার্গেট করে অপহরণ করা হয়।
অভিযুক্তরা হলেন, ১) পান্না (৩২), পিতাঃ মোঃ ফজলু, নারায়নপুর, রাজশাহী, ২) সৌরভ (৩০), পিতাঃ অজ্ঞাত, ৩) মোঃ শান্ত হাসান (২৪), ৪) মোঃ আদনান স্বাধীন (২৬), উভয়ের পিতাঃ মোঃ নজরুল, ৫) মোঃ রাসেল (২৫), পিতাঃ অজ্ঞাত, ৬) মোঃ সজিব (২৩), পিতাঃ অজ্ঞাত, ৭) মোঃ শফি (৫২), পিতাঃ অজ্ঞাত, শফি ড্রাইভার নিজেকে বিএনপি নেতা বলে পরিচয় প্রদান করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কামরাঙ্গাচালা ঢালের নিচে জনমানবহীন অন্ধকার ও পরিত্যক্ত স্থানে অটোযানে তুলে নেওয়া হয় সাইফুল ইসলামকে। সেখানে তার হাত-পা ও চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষিতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে থাকা নগদ ১৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, ওই রাতেই প্রাণে বেঁচে কোনো রকমে বাড়ি ফিরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও দুঃস্বপ্ন তখনও শেষ হয়নি। পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা সরাসরি তার বাসায় হাজির হয়ে ফের প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গুম করে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে লিখিত অভিযোগে।
চরম আতঙ্কে পড়ে নিজের জীবন বাঁচাতে সাইফুল ইসলাম ধার করে ৫ হাজার টাকা এনে অপহরণকারী চক্রের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। একইসঙ্গে ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজে ও তার পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই পুরো অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটানো হয়েছে কথিত বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত ৭ নম্বর অভিযুক্ত মোঃ শফি (ড্রাইভার)-এর নেতৃত্বে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে অপরাধ সংঘটনের বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
অবশেষে ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এই ভয়ংকর অপহরণকারী চক্র ও তাদের কথিত নেতৃত্বদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ, খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।