সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর ৪টা থেকে ভোরের পাখি সরকারি স্কুলের উত্তর পাশে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর থেকে শুরু হওয়া তীব্র নদীভাঙনে নতুন করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা ও ঘরবাড়ি চোখের সামনে নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি। কেউ কেউ নিজেদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি বসতভিটা ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।
এদিকে নদীভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। এতে আশপাশের আরও বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভোরের পাখি সরকারি স্কুলের উত্তর পাশের এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন অনেকটা অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও বসতভিটা হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বহু পরিবার সর্বস্ব হারাতে পারেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষকে রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।