রহিম সুমনের নতুন টেলিছবি “জলটুঙি” শিগগিরই পর্দায়

Spread the love

মো আবদুল করিম সোহাগ, ঢাকা

আসছে নির্মাতা রহিম সুমনের নতুন টেলিছবি জলটুঙি। আফরিন জেসিকার রচনায় এবং রহিম সুমনের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় তৈরি এই টেলিছবিটি শিগগিরই দেশের প্রধান সারির টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হবে। অনিন্দ্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নির্মাণ করেছে প্রযোজক জুলফিকার চঞ্চল ও মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন।

টেলিছবিটিতে অভিনয় করেছেন নাজনীন হাসান, দিলারা জামান, হামিদুর রহমান, ঈষিকা সাকিন, অভি প্রামাণিক, ইমামুর রশীদ খান, রতন সিদ্দিকীসহ আরও অনেকে। ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে নির্মাণ কাজ। চিত্রগ্রহণ করেছেন সাখায়েত হোসেন সাকিব। সম্পাদনা ও রং বিন্যাসের কাজ করেছে স্টুডিও কাট অ্যান্ড কালার। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করেছেন জাহিদ হাসান আনন। শিল্প নির্দেশনায় চারু পিন্টু, পোশাক পরিকল্পনায় ফারহিন হক, মেকআপে মো. রিমান এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তামান্না আখি। ‘জলটুঙি’ গল্প এগিয়েছে বর্ণবৈষম্যের দুঃসহ বাস্তবতা ঘিরে। প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগেও সমাজে রয়ে গেছে সেকেলে মানসিকতা, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ গায়ের রঙকে কেন্দ্র করে বৈষম্য। এই বৈষম্য থেকে মুক্ত নয় টেলিভিশন-বিজ্ঞাপন জগত, চাকরিক্ষেত্র এমনকি নবজাতক পর্যন্ত।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়া—শ্যামলা, আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্টবাদী এক নারী। স্বামী আসিফ ও সন্তান নিয়ে তার সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু আসিফের বন্ধু-স্বজনের কটূক্তি আসিফকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দেয় জয়ার কাছ থেকে। বাধ্য হয়ে জয়া আলাদা হয়ে যান, আর তাদের মেয়ে টুসি বঞ্চিত হয় মায়ের স্নেহ থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর। পরে ১৮ বছর বয়সে মায়ের কাছে ফিরে আসেj টুসি। অভিমান ভাঙাতে এবং মায়ের প্রতি সম্মান জানাতে নিজের বর্ণ বদলে মায়ের রূপ ধারণ করে। প্রথমে ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও শেষে জয়া উপলব্ধি করেন মেয়ের ভালোবাসা এবং আসিফের অনুশোচনা। টেলিছবিটি তুলে ধরে—সেকেলে মানসিকতার শৃঙ্খল ভাঙতে না পারলে সমাজ থেকে বর্ণবৈষম্য দূর হবে না। তাই নিজের পরিচয়ে দৃঢ় থাকার বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় ‘জলটুঙি’।

রহিম সুমনের নির্মিত জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে বংশপ্রদীপ, একাকী, প্রিয় ফুল তুমি, গোধূলীর আলো, মামলা মতিন, ভালোবাসি ভালোবাসি, নিরবে চেয়েছি তোমায়, ক্ষমা, শঙ্খ, সাবকনসাস, ছায়া হয়ে থেকো, এলোমেলো বাতাসি ইত্যাদি। তার ধারাবাহিক সাফল্যের ধারায় ‘জলটুঙি’ও দর্শকের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *