নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুর একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে এমনটিই বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে আটটায় রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে রংপুর বিভাগের মানুষের উদ্দেশ্য এমন বক্তব্য রাখেন দীর্ঘ বাইশ বছর পর।
রংপুরে পথসভায় জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রংপুর বিভাগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথচলা। পরে পথসভা শেষ করে রাত সাড়ে আটটায় রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জনসভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, প্রিয় ভাই বোনেরা রংপুর হচ্ছে শহীদ আবু সাইদের রক্তে মেশানো পবিত্র মাটি।কাজেই যে ত্যাগ আমরা জুলাই আন্দোলনে দেখেছি সেই ত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারেনা। আমাদের যে কোন মূল্যে সেই ত্যাগের মূল্যয়ন করতে হবে। আবু সাঈদ কিভাবে জীবন উৎসর্গ করছে সেই ত্যাগের মূল্যায়ণ আমরা করবো। আবু সাঈদ সহ যে চৌদ্দশো ব্যক্তি শহীদ হয়েছে তাদের মূল্যয়ন তখনই করতে পারবো যখন এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। যার জন্য আবু সাইদ সহ হাজারো মানুষ জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ বলে এই রংপুর এলাকা সহ রংপুর বিভাগের জেলা গুলো গরীব অঞ্চল। আমি বিশ্বাস করি এ অঞ্চল হচ্ছে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক ব্যক্তি ও নেতৃত্বের দরকার তাহলে আমরা এই বিভাগের আমুল পরিবর্তন করতে পারবো। বক্তব্যের মাঝে বলেন, অতীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান শাসনামলের আগে রংপুরে ব্রো ধানের উচ্চফলনশীল ধানের বীজ কৃষকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমরা দেখেছি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন তখন এই অঞ্চলের বেশি সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। যে সকল মানুষ দারিদ্র্য সীমা থেকে বেড়িয়ে এসেছিলো বিগত ষোল বছর ধরে আমরা দেখেছি সে সকল মানুষের ভাগ্য বদলে তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট করা হয়েছে, কিন্তু ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। ফলে জনগণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা টিকে থাকার জন্য ব্যবসা বাণিজ্য, মিল-কারখানা কোনকিছুই এইখানে করা হয়নি। এই আবু সাঈদের শহরে কয়লা পাওয়া যায় জানতাম না। এই কয়লা যদি উত্তোলন করি তাহলে আমরা রংপুরের উন্নয়ন করতে পারবো। তিনি আরও বলেন,এই অঞ্চল কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এই দেশের এই এলাকার মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। বিগত ষোল বছরে সারাদেশের মানুষের সাথে কৃষকদের কি নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কৃষি পণ্যের মূল্য-বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। সেই কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষ কে সরকার গঠন করলে কৃষকদের বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ দেয়া হবে এবং ছোট ছোট ক্ষুদ্রঋণ গ্রহন করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনের ধানের শীষ বিজয়ী হলে ১৩ তারিখে এনজিও কর্তৃক ক্ষুদ্রঋণ পরিশোধ করে দিবো। রংপুর অঞ্চলের মানুষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এই এলাকাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান করতে হবে। এই এলাকায় যেমন প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে তেমনি বড় সম্পদ কৃষি আছে। আমরা চট্রগ্রাম, খুলনা, ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাও সহ এই এলাকায় কৃষি ইন্ডাস্ট্রিরিয়াল গড়ে তুলবো। আমরা পরিকল্পনা গ্রহন করেছি ১৩ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা বিশেষ সুবিধা দেবো যাতে করে এই অঞ্চলের মানুষ মিল-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থাপন করার মধ্যে দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই কাজগুলো করার মধ্যে দিয়ে আমরা আবু সাঈদের আত্মত্যাগের একটি অংশ পূরণ করতে পারবো এবং বড় যে অংশটি রয়ে যাবে সেটি হচ্ছে এই দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা।৫’ই আগষ্ট ২৪’শে যে পরিবর্তন হয়েছিলো সেটা কোন রাজনৈতিক দলের কারণে হয়নি, এদেশের সকল শ্রেণী পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলো। তিনি আরও বলেন বলেন, যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ সহ হাজারো মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের ভোট, অর্থনৈতিক ও কথা বলার অধিকার মূল্যয়ন করতে পারবো তখনই যখন আমরা জুলাই সনদ সাক্ষর কে মূল্যয়ন করতে পারবো।
সমাপনী বক্তব্য বলেন, ধানের শীষে যেমন ১২ তারিখে সীলটা দিবেন সাথে যে দ্বিতীয় ব্যালট পেপারটিতে হ্যা ও না এর সেখানে হ্যা এর পক্ষে ভোট দিবেন। একটি দল আছে যারা বিএনপি নামে মিথ্যা বলে যাচ্ছে। এখন তাদের দুজন সদস্য বলছে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তারা ‘বিএনপি’র সঙ্গে ছিলো এবং তারা নাকি ভালো আর আমরা খারাপ। জনগণ সিদ্ধান্ত নিবে কাকে ভোট দিবে। আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে রায় তুলে দিতে চাই। আমাদের শক্তি যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ সেহেতু বাংলাদেশের মানুষের প্রথম ও শেষ সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।