জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শরৎ, রূপ হারিয়ে বাড়ছে তীব্র খরতাপ

Spread the love

মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি।

বাংলা ঋতুচক্রে শরৎ মানেই নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা, নদীর পাড়ে কাশফুলের দোলা আর প্রকৃতির অপরূপ স্নিগ্ধতা। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই চিরচেনা রূপ এখন অনেকটাই স্মৃতির পাতায় বন্দি হতে চলেছে। বর্ষার বিদায়ের পর প্রকৃতিতে যে কোমলতা ও প্রশান্তি নামার কথা ছিল, তার বদলে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তীব্র খরতাপ। আশ্বিন পেরিয়ে কার্তিকের আগমনী বার্তা মিললেও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ ভাবিয়ে তুলছে পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের।

​সরেজমিনে গাজীপুরের কালীগঞ্জ অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, ঋতুচক্রে শরৎ অবস্থান করলেও প্রকৃতির আচরণ ভিন্ন। আশ্বিন প্রায় শেষ হয়ে সামনে আসছে হেমন্ত। একসময় এই সময়ে গ্রামবাংলার মাঠ-ঘাটে যে শিশিরভেজা সকাল আর মৃদু হাওয়ার পরশ মিলত, এখন তার জায়গায় ভর করেছে তীব্র রোদ আর অস্বস্তিকর গরম। দুপুরের দিকে রোদের উত্তাপ এতটাই বাড়ছে যে বাইরে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে। শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিচ্ছে চরম ক্লান্তি ও শারীরিক অস্বস্তি।

​স্থানীয়দের মতে, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রকৃতি তার স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে। নদী-নালা ও বিলের ধারে কাশফুলের যে শুভ্রতা চোখে পড়ত, আবহাওয়ার বৈরী আচরণে তাও যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। আকাশে সাদা মেঘের স্বতঃস্ফূর্ত উড়াউড়ির বদলে দেখা মিলছে তাপদাহের প্রখরতা।

​পরিবেশবিদদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলে যাচ্ছে। অসময়ে অতিরিক্ত গরম ও হঠাৎ বৃষ্টির মতো বৈপরীত্যপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর।

​এ বিষয়ে কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ, বনভূমি ও জলাভূমি রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে কৃষি ও জনজীবনকে খাপ খাওয়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”

​প্রকৃতির এমন বদলে যাওয়া দেখে প্রশ্ন উঠছে—ভবিষ্যতের শরৎ কি আদৌ তার চিরচেনা রূপ ফিরে পাবে? নাকি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলার ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য ধীরে ধীরে চিরতরে হারিয়ে যাবে? ঋতুর পালাবদলে হয়তো শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত আর শীত আসবে, কিন্তু প্রকৃতির সেই সনাতন রূপ কতটা টিকবে, তা নিয়েই এখন গভীর চিন্তা সচেতন মহলে।