চাচা ও তার সহযোগীকারাগারে কালীগঞ্জে ফিল্ম স্টাইলে ভাতিজাকে অপহরণ

Spread the love

ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)

গাজীপুরের কালীগঞ্জে অভিনব কায়দায় ফিল্ম স্টাইলে ভাতিজাকে অপহরণ করে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবী, হাত পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর, জোর পূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চাচা মোমেন মৃধা, ও তার শালক রিপন মিয়া, মিঠু মিয়া ও তাদের সহকর্মী সজিব, সাকিব হাসান, রহমতুল্লাহ ও নবীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার কালিকুটি ব্রিজ সংলগ্ন (পূর্বাচল) নিরব এলাকায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা ঝরনা আক্তার বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ১৪ নং মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় চাচা মোমেন মৃধা ও সাকিব হাসানকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ রূপগঞ্জের ধামসি এলাকার রিপন মিয়ার গোপন আস্তানা জঙ্গলবাড়ি রিসোর্ট থেকে গ্রেফতার করে। পরে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
মামলা করার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে
মামলা তুলে নিতে বাদীসহ তার পরিবারকে অপহরণ ও হত্যাসহ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা বিষম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হৃদয় মৃধার কালীগঞ্জ থানাধীন পারাবর্তা (পূর্বাচল ২৮ নং সেক্টরের) ৩ কাটা জমির প্লটটি জোরপূর্বক জবর-দখল করে নেওয়ার জন্য মোমেন মৃধা দীর্ঘদিন যাবত শত্রুতা পোষণ করে আসছিল। লোকজন নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকিও দিত সে। একে কেন্দ্র করে ৯ মার্চ বিকেলে পারাবর্ত এলাকা থেকে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে হৃদয় তার বন্ধুদের নিয়ে প্রাইভেট কার নিয়ে গাড়ি কিনার উদ্দেশ্যে উত্তরা যাওয়ার পথে পূর্বাচল কালিকুটি ব্রিজ (স্বাধীনতা চত্বর) পৌঁছালে পূর্ব থেকে উত পেতে থাকা রিপন তার সন্ত্রাসী বাহিনীদের নিয়ে পথ রোধ করে। পরে অস্ত্র মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক প্যারাডু গাড়িতে উঠিয়ে রূপগঞ্জের ধামসি এলাকার জঙ্গলবাড়ি রিসোর্টে নিয়ে মধ্যযুগের কায়দায় হাত-পা বেঁধে রাতভর মারধর করে বাম পা ভেঙ্গে ফেলে। সেখান থেকে হৃদয়কে ঢাকা রাজউক অফিসে নিয়ে হাজিরা খাতাসহ সাদা স্ট্যাম্পে প্রায় ২০-২১ স্বাক্ষর নেয় রিপন বাহিনী। পরে ১০ মার্চ রাতে হৃদয়কে পুনরায় রূপায়ণ সিটির একটি গোপন কক্ষে নিয়ে মারধর করে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। মারধরের একপর্যায়ে তার অবস্থা বেগতি হলে ওই দিন দিবাগত রাত ১ টার দিকে কৌশলে উত্তরা রিহাব সেন্টারের কর্মরতদের খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়। এদিকে হৃদয়ের পরিবার তাকে কে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানার শরণাপন্ন হন। উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জামাল উদ্দিন সঙ্গে ফোর্স নিয়ে মোমেনও সাকিব হাসানকে আটক করে অপহৃত হৃদয়কে উদ্ধারের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। এ বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ১১ মার্চ দুপুরে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে নিখোঁজ হৃদয়ের বাবাকে ফোন দিয়ে হৃদয় কি হয় বলে। পরে হৃদয় আমার ছেলে বললে, সে উত্তরা রিহাব সেন্টারে আছে বলে জানায়। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় ১১ মার্চ রাতে উত্তরা মাদক নিরাময় সেন্টার থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানান খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উত্তরা মাদক নিরাময় সেন্টার থেকে আহত অবস্থায় হৃদয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *