মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, কালিগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি।
আমরা সমাজে কেউ ক্ষমতাপ্রাপ্ত নই, আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত। যারা মনে করে তারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত, তাদের মধ্যে অহংকার জন্ম নেয়; আর অহংকারই হচ্ছে পতন ও ধ্বংসের মূল। কোনো বিবেকবান মানুষ পতন চায় না। তাই ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে ভালোবাসা ও স্নেহের বন্ধনে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে।
গাজীপুর সদরের পূবাইলস্থ ভাদুন এলাকায় ফাতিমা রানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী উদযাপন-২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভাদুন ধর্মপল্লী এলাকার হীরক জয়ন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফাতেমা রানী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভাদুন ধর্মপল্লীর পালকীয় পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ভাদুন ধর্মপল্লীর স্কুল সভাপতি ফাদার সেনু জাগারিযাস কস্তা-র সভাপতিত্বে হীরক জয়ন্তীর আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর ছাত্র জীবনের স্মৃতিকথা তুলে ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “ছাত্রীদের মনোজ্ঞ নৃত্য প্রদর্শন আমাদের মুগ্ধ করেছে। তবে কেবল নাচ-গানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, মূল লক্ষ্য ঠিক রেখে ভালোভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন কিংবা কোনো দ্বন্দ্বে প্রতিশোধ নিয়ে জাতির কোনো লাভ হয় না। ইতিহাসের বড় বড় যুদ্ধ বা মনোমালিন্য কখনোই ময়দানে ফয়সালা হয়নি, শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সমৃদ্ধ জাতি গঠনে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ ও সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালব (CCULB)-এর চেয়ারম্যান মি. অগাস্টিন পুরিফিকেশন, হাউজিং সোসাইটি লি.-এর চেয়ারম্যান মি. প্রতাপ অগাস্টিন গমেজ, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি মি. অনিল লিটু কস্তা এবং ফাতেমা রানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার শিল্পী সেলিন কস্তা। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ ও সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন ভাদুন ধর্মপল্লীর পালকীয় পরিষদের সহ-সভাপতি মি. সুজয় পুরিফিকেশন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ঐতিহ্যবাহী গৌরবময় জয়ন্তীর মহাখ্রীষ্টযোগে প্রধান পৌরহিত্য করেন ঢাকা মহামণ্ডলেশ্বরের সহকারী ধর্মপাল বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ। পরবর্তীতে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গুণীজন সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।