গাজীপুরে পৃথক তিন অভিযানে পর্নোগ্রাফি চক্র ও বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

Spread the love

হাসমত আলী, কাশিমপুরঃ

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানা পুলিশ পৃথক তিনটি অভিযানে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, নির্মাণসামগ্রী চুরি এবং বিদ্যুৎ মিটার চুরির ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশিমপুর থানার পুলিশ ৮ জুলাই ভোরে গ্রীনসিটি মোজারমিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. জাকির হোসেন (৪২) ও নায়েব আলী (২৬)-কে আটক করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে একাধিক অশ্লীল ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়া যায়। এছাড়া একটি মোবাইলের ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির ভিডিও আদান-প্রদানের তথ্যও পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করে যে, তারা সহযোগীদের নিয়ে কৌশলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাসায় এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অজ্ঞাতে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করত এবং পরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেগুলো সরবরাহ করত। এ ঘটনায় পলাতক রবিনসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে অপরদিকে, কাশিমপুরের লোহাকৈর এলাকায় সিটি করপোরেশনের আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ১০টি স্টিল শাটার চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় তানভির আহম্মেদ (২১)-কে আটক করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, নির্মাণকাজ শেষে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১০টি স্টিল শাটার সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো চুরি হয়ে গেলে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তানভিরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহযোগীদের নিয়ে শাটারগুলো চুরি করে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল, রানা, বুলু, রফিক ড্রাইভারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ মিটার চুরি ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তদন্তে দুই সন্দেহভাজন আসামি আল-আমিন (৩২) ও বাবুল মিয়া (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ।

মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে কারখানার বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে একটি মোবাইল নম্বর লিখে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে মিটার ফেরত দেওয়ার শর্তে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আল-আমিন ও বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
কাশিমপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলমান রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *