একদিনের বৃষ্টিতে হলিদ্র চালা গ্রামে বন্যা

Spread the love

হাবিবুর রহমান (রিপোর্টার)

মির্জাপুর উপজেলার ১০ নং গোড়াই ইউনিয়নের একটি অবহেলিত গ্রাম ‘হলিদ্রাচালা’। উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত এই গ্রামের বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে এক চরম জনদুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতেই গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে অনেকটা নদীর রূপ ধারণ করে। এতে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামটির প্রধান সংযোগ সড়কটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। বুক সমান পানি ও কাদা এবং জলাবদ্ধতার কারণে শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের যাতায়াত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাটি ভেঙে গভীর খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় রিকশা, ভ্যান তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে।
​
​ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, নির্বাচন এলে প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায় অনেক, কিন্তু ভোটের পর আর কোনো জনপ্রতিনিধির দেখা মেলে না। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে আমরা সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারি না। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার মতো অবস্থাও থাকে না।

​গ্রামবাসী দীর্ঘকাল ধরে এই রাস্তাটি উঁচু ও পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের। বর্তমানে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হয়।

​এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবহিত আছেন এবং পর্যায়ক্রমে গ্রামগুলোর রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বরাদ্দের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কিছু উন্নয়ন কাজে বিলম্ব হতে পারে, তবে দ্রুত হলিদ্রাচালা গ্রামের রাস্তার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
​
হলিদ্রাচালা গ্রামের এই অবহেলিত মানুষগুলো কি আদৌ কবে নাগাদ একটি টেকসই ও আধুনিক রাস্তা পাবে এখন সেটাই দেখার বিষয়। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *