মো. আবদুল করিম সোহাগ, ঢাকাঃ
যখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেলাভূমিতে বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে লাল হয়ে উঠে, পশ্চিম দিগন্তে সূর্য ডুবে যাওয়ার আগে ছড়িয়ে পড়ে রক্তিম আভা। সেই আলো এসে পড়ে সমুদ্রের নীল জলের ওপর। ঠিক সেই মুহূর্তে বালুচরে চাদর বিছিয়ে গোল হয়ে বসে থাকেন মানুষরা। সামনে সাজানো শরবত, ফলমূল আর নানা পদের ইফতারসামগ্রী। চারদিকে নিস্তব্ধতা, শুধু শোনা যায় সমুদ্রের ঢেউয়ের মৃদু গর্জন।
দুই সারিতে বসে থাকা মানুষগুলো সূর্যাস্তের সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে গল্পে মশগুল থাকেন। সূর্য ডুবে গেলে এই অবারিত প্রকৃতির মাঝেই তারা শুরু করেন ইফতার। পবিত্র রমজান মাসে এমন দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে।
রমজানের বিকেল এলেই সৈকতের বালুচরে জড়ো হচ্ছেন নানা বয়সি মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ সহকর্মীদের নিয়ে আসছেন। অনেকেই বাড়ি থেকে ইফতারসামগ্রী নিয়ে এসে বালিয়াড়িতে বসেই আয়োজন করছেন ইফতার।
সৈকতের পাশে গড়ে ওঠা কয়েকটি রেস্তোরাঁও পর্যটকদের জন্য বেলাভূমিতে টেবিল পেতে বিশেষ ইফতার আয়োজন করছে। খোলা আকাশের নিচে, সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে ইফতার করার অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে অনেকেই এখন সৈকতকে বেছে নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, আগে যেখানে সৈকতে মূলত বিকেলের সময় হাঁটাহাঁটি বা আড্ডা দিতে মানুষ আসতেন, এখন সেখানে রমজান মাসে ইফতার আয়োজনও একটি নতুন সংস্কৃতি হয়ে উঠছে। বাড়ি কিংবা দোকান থেকে আনা তরমুজ, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, জিলাপি, মুড়ি, শসা, টমেটো, গাজর ও বিভিন্ন ফলমূল কেটে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কেউ শরবত বানাচ্ছেন, কেউ আবার প্লেটে খাবার ভাগ করে দিচ্ছেন। শুধু তরুণরাই নন, অনেক পরিবারও এখন সৈকতে এসে ইফতার করছেন। বিকেলের দিকে শিশুদের নিয়ে অনেক পরিবার সৈকতে ঘুরতে আসেন। সূর্যাস্তের আগে বালুচরে বসেই তারা ইফতার সারছেন।
আহসান হাবিব মনে করেন, প্রকৃতির মাঝে বসে ইফতার করার মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি রয়েছে। খোলা আকাশ, সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ, শীতল বাতাস- সব মিলিয়ে পরিবেশটি হয়ে ওঠে অন্যরকম। সূর্যাস্তের ঠিক আগে সবাই যখন নীরবে বসে অপেক্ষা করেন, তখন যেন প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত সংযোগ তৈরি হয়। সব মিলিয়ে রমজান মাসে সৈকতে বসে ইফতার করার এই প্রবণতা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির মাঝে বসে ইফতার করার এমন আয়োজন অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।