গাছা থানার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহবায়ক আনোয়ার গ্রেফতার।

Spread the love

আসাদুজ্জামান লিওন

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৩ নং ওয়ার্ড যেন আবারও তোলপাড়। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এম.এ.—যিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক—তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তথ্যের ভিত্তিতে গাছা থানা পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক রাত নয়টার দিকে (১ নভেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরখালকুর এলাকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম দ্বীপের আপন চাচা আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একাধিক জমি দখলের ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। এলাকাবাসী আরও জানান, ছাত্র হত্যা থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর সহযোগিতা পর্যন্ত—সব জায়গায় তার নাম ঘুরেফিরে উঠে আসে। কিন্তু অদৃশ্য কোনো ক্ষমতার ছায়ায় এতদিন তিনি থেকেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। তবে স্থানীয়দের মতে, এটি শুধুই পুরনো নাটকের পুনরাবৃত্তি—অভিযোগের পাহাড়, অথচ প্রতিবারই পাল্টা দাবি করে রক্ষা পান প্রভাবশালী এই নেতা।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আনোয়ার হোসেনের পেছনে রয়েছেন মূল অর্থ যোগানদাতা ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মিজানুর রহমানের ছোট ভাই মো. আনিছুর রহমান, যিনি এখনো আছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা দাবি করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রকে সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত করা হোক।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের আশ্রয়ে যারা আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করছে—তাদের বিচারের আওতায় আনা না গেলে, ন্যায়বিচার হবে অধরাই—এমনটাই বলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

গাছা থানার ওসি মো আমিনুল ইসলাম বলেন আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রমাণ সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতদিন যিনি পর্দার আড়ালে থেকে রাজনীতির ছত্রছায়ায় প্রভাব বিস্তার করছিলেন, সেই আনোয়ার হোসেন এখন পুলিশের হাতে—গাজীপুরের রাজনীতিতে যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *