৪৯ বছরের শাক বিক্রির জীবনে আজও রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষা, পাঁচ টাকার শাকেও মিলছে না ক্রেতা

Spread the love

মোঃ খাইরুল ইসলাম, গাজীপুর।

জীবনের দীর্ঘ ৪৯টি বছর ধরে রাস্তার পাশে বসে শাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এক দরিদ্র শাক বিক্রেতা। বয়সের ভার আর জীবনের নানা বাস্তবতা পেরিয়েও থেমে নেই তাঁর সংগ্রাম। প্রতিদিনের মতো আজও রাস্তার পাশে সামান্য কিছু শাক নিয়ে বসে আছেন তিনি। কিন্তু ক্রেতার দেখা মিলছে খুব কম।

সামনে পড়ে আছে অল্প কিছু তাজা শাক। পথচারীরা কেউ তাঁর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, কেউ শাকের দাম জিজ্ঞেস করে আবার চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ কিনলেও অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। মাত্র পাঁচ টাকার শাক বিক্রি করতেও তাঁকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ক্রেতার জন্য।

শাক বিক্রেতার ভাষ্যমতে, প্রায় ৪৯ বছর ধরে তিনি রাস্তার পাশে বসে শাক বিক্রি করছেন। একসময় এই শাকের জন্যই বাজারে মানুষের ভিড় জমত। ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে শাক কিনতেন। অথচ সময়ের পরিবর্তনে আজ সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন মানুষ দাম জিজ্ঞেস করে চলে যান, অনেক সময় শাক বিক্রি না করেই বসে থাকতে হয়। রাতের ব্যস্ত সড়কের পাশে বসে থাকা এই মানুষটির নীরব অপেক্ষা যেন জীবনের কঠিন বাস্তবতারই এক প্রতিচ্ছবি। সামান্য কয়েক আঁটি শাক বিক্রি করে যাঁর সংসার চলে, তাঁর কাছে প্রতিটি ক্রেতাই অনেক মূল্যবান।

সমাজে অনেক বড় বড় আয়োজনের গল্প শোনা যায়, কিন্তু রাস্তার পাশে বসে থাকা এমন পরিশ্রমী মানুষগুলোর কষ্ট কয়জনই বা খেয়াল করেন? একটু সহানুভূতি, সামান্য সহযোগিতা আর ন্যায্য দামে তাঁর কাছ থেকে শাক কেনা—হয়তো একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। মানবিকতা বেঁচে থাকুক, বেঁচে থাকুক শ্রমজীবী মানুষের সম্মান।