ভুয়া “মেজর” ও “এসপি”র ভয়ংকর ফাঁদ! সেনা সদস্যের ৩ লাখ টাকা ও চাকরি খেয়ে জাহাঙ্গীর গেটে ধরা

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক।

পোশাক দেখিয়ে নয়, এবার ফেসবুক আর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে! ভুয়া “মেজর” ও ভুয়া “এসপি” সেজে প্রতারণার রাজ্য কায়েম করেছিল একটি চক্র। সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খোয়ালেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সৈনিক। খোয়া গেল ৩ লক্ষ টাকা, খোয়া গেল চাকরিও।

অবশেষে ভুক্তভোগীর ধাওয়া আর জনতার সহায়তায় গত (০৪ সেপ্টেম্বর-২০২৬ইং) রাত ১২:১০ ঘটিকায় ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দরের জাহাঙ্গীর গেট এলাকা থেকে হাতেনাতে আটক হলো চক্রের মূল হোতা ভুয়া “এসপি শাহিন আলম”। পরে তাকে সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সেনা সদস্য মোঃ সাব্বির আহমেদ সৌরভের অভিযোগ, গত ২৭/১০/২০২৫ ইং তারিখে ফেসবুকে “মেজর মেহেদী” নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তা দাবি করে তার সাথে বন্ধুত্ব করে। আস্থা বাড়াতে “মেজর মেহেদী” সৌরভকে পরিচয় করিয়ে দেয় “এসপি শাহিন আলম” এর সাথে। এই “এসপি” সৌরভের ছোট বোনের বিয়েতে এসে ২ দিন বাসায়ও থাকে। বিশ্বাস অর্জনের পরই আসল খেলা।

“জরুরি কাজ” এর কথা বলে কৌশলে সৌরভের স্ত্রীর গহনা ও বেতনের সব টাকা মিলিয়ে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। দেওয়ার কথা ছিল ১০ দিনে। টাকা নেওয়ার পর সৌরভকে নিয়ে নীলফামারী যায় শাহিন। ফেরার পথে একটি থানায় ঢুকে সরাসরি ওসির চেয়ারে বসে যায় সে। নিজেকে এসপি পরিচয় দিয়ে থানার পুলিশদের শাসায় এবং সৌরভের ভগ্নিপতির জন্য তদবির করে। তখনই সৌরভের সন্দেহ হয়। তিনি থানায় নিজের আসল পরিচয় দেন। প্রতারণার মাসুল দিতে হল চাকরির বিনিময়ে
পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে “মেজর মেহেদী” ও “এসপি শাহিন আলম” দুজনই ভুয়া। তাদের কারণে সৌরভের বিরুদ্ধে কোর্ট অফ ইনকোয়ারি বসে এবং তিনি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন।

জাহাঙ্গীর গেটে এন্ডগেম অনেক খোঁজার পর গত ৩ অক্টোবর রাতে ঢাকার জাহাঙ্গীর গেটে শাহিন আলমকে আটক করেন সৌরভ ও তার বন্ধুরা। আটকের পর তাকে ৪৬ ইনফেন্ট্রি ব্রিগেড, ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি এমপির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সে কোম্পানি কমান্ডারের হেফাজতে। আটকৃতের আসল নাম ইত্তেকার শাহীন চৌধুরী, তার জন্মস্থান সিলেট বিভাগের বরলেখা থানার পাকুলিয়া গ্রামের মোঃ কামরুজ্জামানের ছেলে। এলাকায় সে বিভিন্ন জেলায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে মোবাইল ঘেঁটে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে ছিল অসংখ্য প্রতারণার কল রেকর্ড, অডিও, ছবি এবং একাধিক নারী কেলেংকারির পর্নোগ্রাফি ভিডিও। জিজ্ঞাসাবাদে শাহিন নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।

ভুক্তভোগী সাব্বির আহমেদ সৌরভ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওরা আমার টাকা মেরেছে, ইজ্জত মেরেছে, চাকরি মেরেছে। আমি শুধু বিচার চাই। আমার টাকা ফেরত চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *