বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ,নিহত ১,আহত অর্ধশতাধিক

Spread the love

উসমান ফারুক-স্টাফ রিপোর্টারঃ

শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চেয়ার বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, গতকাল দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে। বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে জামায়াতের এক নেতা নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতীর রেজাউল করিম উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে গতকাল রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল ঝিনাইগাতীর ওই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২২ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর থেকে অন্তত ৩০০টি আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ, মারধর ও ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, বিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা অনুষ্ঠান-স্থলে জড়ো হতে থাকেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীর মঞ্চে আসার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উভয় পক্ষ্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী সংঘর্ষ চলাকালে সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েক শ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও একটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার পরপর ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, সব প্রার্থীকে নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু চেয়ারে বসা নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাঁকে শেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আহত অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম ভোরের কন্ঠকে বলেন, রেজাউল করিমকে হাসপাতালে আনা হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূরুজ্জামান (বাদল) ফেসবুকে এক পোস্টে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকদের বর্বরোচিত হামলায় আমাদের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আমাদের ৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশ্ঙ্কাজনক।

এদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এ হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *