স্টাফ রিপোর্টার, মমিনুল ইসলাম।
গাজীপুরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পথ কাশিমপুর-শ্রীপুর সড়ক। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর সংস্কার না থাকায় ও সড়কের মাঝ বরাবর ইটের সোলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় খানাখন্দ। সাধারণ মানুষের কাছে সড়কটি এখন যেন এক ভয়ঙ্কর দুর্ভোগের অন্য নাম। এই সড়কটির একটি অংশের পাশে সংস্কারের উদ্দেশ্যে ড্রেন খোঁড়া হলেও তা অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে।
আজ (০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং) রোজ শুক্রবার রাতে ড্রেনসংলগ্ন পথ অতিক্রম করার সময় একটি প্রাইভেট কার উল্টে ওই খোলা ড্রেনে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও গাড়িটি ড্রেনে আটকে থাকায় সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবির হয়ে পড়ে যানবাহন চলাচল। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটি ড্রেন থেকে তোলার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, এই সড়কে দুর্ঘটনা ও দীর্ঘ যানজট এখন নিত্যদিনের চিত্র। অরক্ষিত ড্রেন ও খানাখন্দে ভরা ইটের সোলিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় যানবাহন উল্টে গিয়ে তৈরি হচ্ছে চড়ম বিশৃঙ্খলা।
এ বিষয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী এক স্থানীয় পথচারী বলেন, “প্রতিদিনই এখানে গাড়ি ড্রেনে পড়ে কিংবা গর্তে আটকে যানজট লেগে থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের এই রাস্তায় যাতায়াত করতে হয়। অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
অন্য এক যানবাহন চালক আক্ষেপ করে জানান, “ইটের সোলিং উঠে গিয়ে পুরো রাস্তার মাঝখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ড্রেনের কাজও শেষ হচ্ছে না, আবার সুরক্ষাবেষ্টনীও নেই। প্রতি মাসে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়, আমাদের আয়-রোজগার শেষ।”
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে কাশিমপুর-শ্রীপুর সড়কের অরক্ষিত ড্রেন নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং পুরো সড়কটির স্থায়ী কার্পেটিং করে চলাচলের উপযোগী করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে আরও বড় ধরনের প্রাণহানিকর দুর্ঘটনা।