ছোটবেলার সমালোচনা গুলোই ছিল এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি- নিলিমা হাসান মোহনা

Spread the love

মো. আবদুল করিম সোহাগ, ঢাকাঃ

ছোটবেলা থেকেই একটা কথা খুব শুনতাম—আমার হাসি নাকি সুন্দর না, আমার দাঁত কিছুটা উঁচু। সেই ছোট্ট মনে কথাগুলো বেশ বিঁধত। কিন্তু আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, সেই সমালোচনাগুলোই ছিল আমার এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি।

আজ ৯ই এপ্রিল, ইন্টারন্যাশনাল পেজেন্ট ডে। আর ঠিক গতকালই পূর্ণ হলো আমার ‘মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল’ হিসেবে পথচলার এক বছর। এই ৩৬৫ দিনে আমি শুধু একটি মুকুটই জয় করিনি, নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি। আমার এই জার্নিটা মোটেও সহজ ছিল না। একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের কঠিন সব সমীকরণ মেলানোর পাশাপাশি মডেলিং, হোস্টিং এবং নিজের ব্যবসা সবকিছু সামলানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মনের মধ্যে ছিল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। সেই জেদ থেকেই প্রতিটি কম্পিটিশনে অংশ নেওয়া এবং দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করা। অনেক রাত কেটেছে প্র্যাকটিস আর পরিকল্পনায়, যেখানে ক্লান্তি বারবার থমকে দিতে চেয়েছে, কিন্তু থামিনি আমি।

সামাজিক দায়বদ্ধতা আমার রক্তে মিশে আছে ছোটবেলা থেকেই। বিভিন্ন সোশ্যাল ওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকতে থাকতেই অনুধাবন করেছি, একার চেয়ে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। সেই ভাবনা থেকেই এখন আমি নিজের একটি অর্গানাইজেশন চালু করছি। আমার লক্ষ্য হলো আমার মতো তরুণীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য এমন এক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের মেধা বিকাশের এবং ভালো কাজের সুযোগ পায়।

এই এক বছরে ঝুড়িতে জমা হয়েছে অনেক সম্মাননা ও অ্যাওয়ার্ড। প্রতিটি স্বীকৃতিই আমাকে কাজের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করেছে। তবে সব অ্যাওয়ার্ড বা অর্জনের ঊর্ধ্বে আমার কাছে যা সবচেয়ে মূল্যবান, তা হলো সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা। কোনো লাল গালিচা বা ঝলমলে মঞ্চের চেয়েও মানুষের এই ভালোবাসাই আমাকে পূর্ণতা দেয়। গত এক বছরের এই রূপান্তর আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজেকে নতুন রূপে গুছিয়ে নিতে হয়। এখন আমার লক্ষ্য আরও বড়, আরও বিস্তৃত। সামনের ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশনগুলোতে লাল-সবুজের পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমি।

আমার এই পুরো জার্নিতে যারা পাশে ছিলেন, যারা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমার সবথেকে বড় অর্জন আজ আমার নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি হওয়া। আর এই এক বছরের শ্রেষ্ঠ পাওয়া হলো আপনাদের ভালোবাসা। এই ভালোবাসাকে পাথেয় করেই আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *