গোপন সমঝোতায় বনভূমি দখল কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা

Spread the love

স্টপ রিপোর্টারঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আবারও প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। খলিসা জানি বিটের আওতাধীন সিরাজপুর এলাকায় সরকারি বনের জমিতে একের পর এক বসতঘর নির্মাণকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগের তীর সরাসরি বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার দিকে—উৎকোচ গ্রহণ, গোপন সমঝোতা এবং দখলদারদের প্রশ্রয় দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বনের জমি দখল করে স্থায়ী বসতঘর নির্মাণের জন্য নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। বনের জায়গা দখল করা ফাতেমার বোন জানান, কথিত এক বিএনপি নেতা রুবেলের মাধ্যমে তিনি খলিসাজানি বিট কর্মকর্তাকে ৪০ হাজার টাকা দেন। বিনিময়ে তাকে মৌখিকভাবে ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসীর ক্ষোভ, “রক্ষক নাকি ভক্ষক? সরকারি কর্মকর্তাদের টাকা দিলে বনের জমিতে ঘর তোলা যায়, আর টাকা না দিলে উচ্ছেদ অভিযানে সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ ভয়ে ও বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বনভূমি দখলের এক নীরব বাণিজ্য চলছে। প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। বরং অভিযোগ রয়েছে, ম্যানেজ হলেই মিলছে ছাড়পত্র। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বনের রক্ষায় যারা রয়েছে তারা ঘুস খেয়ে অন্ধ হয়ে থাকে। এ বিষয়ে খলিসাজানি বিট অফিসের বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, ৫ই আগস্টের পর কিছু বনের জায়গা দখল হয়েছে, মামলাও হয়েছে। তবে বর্তমানে কেউ বনের জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে নি। এবং তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানতে চায় যে, আপনাদের কাছে যদি তথ্য থাকে তবে আমাকে দেন। আমি ব্যবস্থা নিব।

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যে, যার দায়িত্ব বন রক্ষা সেই জানেনা যে কোথায় বনের জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। বাস্তব চিত্র গিয়ে দেখা যায় ঐ সিরাজপুর এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক ঘর নির্মাণ হয়েছে পনেরো দিনে এবং অনেক কাজ চলমান।
এ বিষয়ে কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মাইনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ৫ই আগস্টের পর যেসব ঘর উঠেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি, এরপর আর নতুন কোনো ঘর নির্মাণ হচ্ছে না। কেউ চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হচ্ছে। একপর্যায়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট স্থান জানতে চায় এবং বলার পর রেঞ্জ কর্মকর্তা ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি।

বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি দখল ও উৎকোচের অভিযোগ ওঠে—তবে বন রক্ষা করবে কে? সচেতন মহল বলেছেন বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদের বিরুদ্ধেই যদি দখল ও উৎকোচের অভিযোগ ওঠে—তবে বন রক্ষা করবে কে? সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে বনভূমি দখলের এই দৌরাত্ম্য যে থামবে না—এমন আশঙ্কাই করছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *