মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০:৩০ টায় কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার প্রায় শতাধিক কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব জেসমিন আক্তার-এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শারমিন শাহী।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন খলাপাড়া আদর্শ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মামুন আহমেদ। এরপর পর্যায়ক্রমে গীতা পাঠ করেন সুজাপুর বীণাপানি বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক তারিন চন্দ্র মন্ডল এবং বাইবেল পাঠ করেন সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার শিউলি পিউরিফিকেশন। নিবন্ধনহীনতার সংকট ও প্রশাসনের জোরালো আশ্বাস
সভায় কালীগঞ্জ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ (মোহাম্মদ আলী খোকন মাস্টার, জালাল উদ্দিন মাস্টার, হাবিবুর রহমান হাবিব, এডভোকেট সাদেক মাস্টার, শ্যামল মিত্র মাস্টার, প্রিন্সিপাল নাজমুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নোমান) জোরালো বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় কালীগঞ্জ উপজেলার কোনো কিন্ডারগার্টেন স্কুলই অদ্যাবধি পাঠদানের অনুমতি বা নিবন্ধন পায়নি।” তারা এই সংকট নিরসনে স্কুলগুলোকে সহজ শর্তে পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন প্রদান এবং শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন।
কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতির এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কোনো কিন্ডারগার্টেন স্কুলেরই পাঠদান অনুমতি বা নিবন্ধন না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। তিনি কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর পাঠদানের অনুমতি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আইনি বৈধতা ও সরকারি নিয়মনীতি মেনে বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হলে শিক্ষার মান আরও সুদৃঢ় হবে এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সভার সভাপতি জনাব জেসমিন আক্তার বিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম আরও বলেন: অবকাঠামোগত উন্নয়ন: শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষগুলোর মান বাড়াতে হবে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অডিটরিয়াম বা মিলনায়তন নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে, যা সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি উপজেলার দরিদ্র ও মেধাবী ১০০ জন শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়েছে। নৈতিক শিক্ষা বিস্তার, নিয়মিত উপস্থিতি এবং সৃজনশীল শিক্ষাদানের মাধ্যমে আদর্শ জাতি গঠনে প্রধান শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারী সদস্যবৃন্দের ধারাবাহিক বক্তব্য ও উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রশাসন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সভার সমাপ্তি ঘটে।