মো: ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
গাজীপুরের কালীগঞ্জে হুট করেই আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে গরু চুরি। একের পর এক চুরির ঘটনায় পুরো উপজেলার খামারি ও কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের টিওরী গ্রামের খান বাড়িতে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র গভীর রাতে গোয়াল ঘরে ঢুকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিক মো. জামারুল খান জানান, তার গোয়াল ঘরে প্রতিদিন ১০ লিটার দুধ দেওয়া একটি গাভীসহ মোট তিনটি গরু ছিল। শুক্রবার সকালে তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তাদের থাকার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো। পরে বিকল্প উপায়ে ঘর থেকে বের হয়ে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখেন ভেতরে একটি গরুও নেই। আশপাশে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু চুরির ঘটনাই নয়, সম্প্রতি তুমলিয়া ইউনিয়নের উত্তর সোম এলাকায় মাঝরাতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে এসে ডাকাত দল দুই বালু ব্যবসায়ীর গদিতে হামলা চালায়। ডাকাতরা ব্যবসায়ীদের মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর এবং জ্বালানি তেল লুট করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া, সানাইয়া, মানিকপুর ও টিওরী গ্রামে সম্প্রতি চুরি-ডাকাতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত এক মাসেই আশপাশের গ্রামগুলো থেকে অন্তত এক ডজনেরও বেশি গরু চুরি হয়েছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষক ও ডেইরি খামারিরা।
অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান, সোম বাজারের এক ব্যবসায়ীর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টা ৫ মিনিটে একটি নীল রঙের পিকআপ ভ্যান টিওরী এলাকায় প্রবেশ করে এবং ৩টা ৩৫ মিনিটে দ্রুত গতিতে এলাকা ত্যাগ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পিকআপেই চুরি হওয়া গরুগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, গরু চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং চোর শনাক্তে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে, দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ক্রমাবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী ও এলাকবাসী অবিলম্বে চোরচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং এলাকাজুড়ে নৈশকালীন পুলিশি টহল বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।