কালিয়াকৈরে তুরাগ নদে পিকনিকের নামে নৌকায় তরুণ তরুণীর অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

Spread the love

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার বাঁশতুলী তুরাগ নদী ও মকশবিল এখন অসামাজিক কার্যকলাপের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। পিকনিকের নামে নৌকায় ইয়াবা-মদ সেবন করে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, অশ্লীল নাচ ও বেহায়াপনার অভিযোগে উত্তাল এলাকাবাসী। বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নদীজুড়ে ডিজে পার্টির নামে তরুণ-তরুণীদের নগ্ন উল্লাসে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

সরজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে রঙিন নৌকা ভাড়া করে তুরাগে আসে একটি চক্র। নৌকার ওপর বড় বড় সাউন্ড বক্স, লাইটিং লাগিয়ে রাত পর্যন্ত চলে ডিজে পার্টি। অভিযোগ রয়েছে, এসব পিকনিকে প্রকাশ্যে ইয়াবা, মদ ও গাঁজা সেবন করা হয়। নেশাগ্রস্ত হয়ে তরুণ-তরুণীরা অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও অশোভন আচরণ করে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম হোসেন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার আসলেই নদীতে আর টেকা যায় না। সাউন্ডের ঠেলায় ঘুমানো যায় না। ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া নষ্ট হচ্ছে। নেশা করে মেয়েদের নিয়ে যা করে তা বলার মতো না। পরিবার নিয়ে নদীর পাড়ে যাওয়া বন্ধ করে দিছি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কিছু অসাধু নৌকা মালিক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নৌকা ভাড়া দিচ্ছে। ফলে কালিয়াকৈরের সামাজিক পরিবেশ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, আমরা বারবার মানা করেছি। কিন্তু তারা শোনে না। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর না হয়, তাহলে এলাকা নষ্ট হয়ে যাবে। আব্দুর রহিম জানায়, কিছুদিন আগে থানা পুলিশ নদীতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে পিকনিকের কয়েকটি টলারকে আটক করে। আটক করার পর অশালীন অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ থাকে।এখন আবার নদীতে পিকনিকের নামে চলছে অশ্লীল নৃত্যনাচ দিনরাত।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। নদীতে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের উৎসব কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। খুব দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ সহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা গোপনে নজরদারি করছি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নদীতে বিশেষ টহল বাড়ানো হবে। যারা মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *