কালিয়াকৈরে চৈএের তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে অতিষ্ঠ

Spread the love

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

চৈত্রের মাঝে খরতাপে গাজীপুর কালিয়াকৈরে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা ৩ দিন ধরে প্রচন্ড তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারন মধ্যবিত্ত মানুষ। উতপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে অল্প সময়েই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন সকল শ্রমিকরা।

চন্দ্রা এি মোড়ের আশেপাশে এলাকায় ইট ভাঙার কাজ করতে দেখা যায় মো. মিনহাজ উদ্দিনকে। মাথায় গামছা জড়িয়ে, ঘামে ভেজা শরীরে কাজ করছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরপরই থেমে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আগের মতো আর কাজ করা যায় না। ঘড়ি ধরে ১ ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর আর সাড়া দেয় না। গরম খুব বেশি। একই এলাকার আরেক গার্মেন্টস শ্রমিক সিয়াম মিয়া বলেন, গরম বেশি হলেও কাজ তো করতেই হবে। না করলে সংসার চলবে না। পোষাক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে তাদের কাজের ধরন বদলে গেছে। একটানা কাজের পরিবর্তে মাঝেমধ্যে বিরতি নিচ্ছেন। কেউ পানি পান করছেন, কেউ ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। শ্রমিক সামিউল ইসলাম বলেন, মাঝে মাঝে মেশিন বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হয়। না হলে কাজ করা যায় না।

গাজীপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগের দিন ছিল মাএ ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি। এদিন সকাল ৭ টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে তাপপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে গাজীপুরে টানা দুই দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। মাঝে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কমলেও গত দুই দিন ধরে আবার তাপমাত্রা বাড়ছে এবং এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নগরের সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। হরতকিতলা এলাকায় রিকশাচালক তুহিন বলেন, গরম বেশি হওয়ায় মানুষ কম বের হচ্ছে। তাই ভাড়াও কম পাচ্ছি। রোদ থেকে বাঁচতে অনেকে ছাতা ব্যবহার করছেন, কেউ গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। কালিয়াকৈর এলাকায় তুরাগ নদীর তীরে গাছতলায় বসে থাকা মো. রাসেল বলেন, রোদে কোথাও থাকা যাচ্ছে না। বাতাসও গরম, তাই ছায়ায় বসে আছি। গরমের তীব্রতা বেশি থাকায় অসুস্থ আশেপাশে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে হাসপাতালে রোগীদের হালকা ভিড় দেখা যায়।

গরমে ভাজাপোড়া ও খোলা শরবত এড়িয়ে চলতে হবে। ঢিলেঢালা পোশাক পরা, ছাতা ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা জরুরি। পাশাপাশি প্রচুর তরল পান করতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *