কালিয়াকৈরে যৌতুকের টাকার দাবিতে গৃহবধূকে অমানবিক নির্যাতন

Spread the love

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে অমানবিক নির্যাতন ও মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলায় বলিয়াদী মিরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নির্যাতিত গৃহবধুর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গত দেড় মাস আগে ,পূর্বের সুসম্পর্কের জেরে কালিয়াকৈর পৌরসভার চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ ভাঙ্গা মসজিদ এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে মঈনের সাথে মুসলিম শরীয়া নিয়ম মেনে বিয়ে হয় নুর ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া আলী আকবরের মেয়ে আশা মনির (১৮)। বিয়ে হওয়ার পর স্বামী মঈন তার স্ত্রী আশা মনি কে নিয়ে চাচা বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার বলিয়াদী মিরপাড়া নাসির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে সংসার করে। কিছুদিন পার হওয়ার পর স্বামী মঈন স্ত্রী আশা মনিকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করত। বিভিন্ন সময় গৃহবধূ বাবা-মা ধার দেনা করে হলেও পাষণ্ড স্বামী মঈনের চাহিদা মিটানোর চেষ্টা করত। চাহিদা পূরণ করতে পারলে নির্যাতন বন্ধ থাকতো কিন্তু যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় মারপিট করত।

এরই ধারাবাহিকতায় (২২শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে মঈনের চাচা নাসির উদ্দিনের বাড়ি বলিয়াদী মীর পাড়া এলাকায় গৃহবধূর স্বামী মঈন এবং মা লিপি বেগম, চাচা নাসির উদ্দিন সহ আশা মনির উপরে নির্মমভাবে অত্যাচার এবং মারপিট শুরু করে। মারপিটের একপর্যায়ে আঘাত সইতে না পেরে গৃহবধূ আশা মনি ডাক চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে যায়। এখানেই নির্যাতন শেষ নয়, নির্যাতন করার পর আশা মনির শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা তাকে তালাবদ্ধ করে একটি ঘরে বন্দী করে রেখেছিল। যাতে সে কারো কাছে এই নির্যাতনের ঘটনা জানাতে না পারে। বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পারলে গৃহবধূর ঘরের দরজা এবং জানাল ভেঙ্গে অজ্ঞান অবস্থায় চিকিৎসার জন্য কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মঈনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন,এই ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।