শাহিনুর ইসলাম শাহীন, গাজীপুর
গাজীপুর সদর উপজেলার কোনাবাড়ী ইউনিয়নের দেওয়ালিয়া বাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের টিকাদান কেন্দ্রে সম্প্রতি দেখা গেছে, প্রেগনেন্সি টিকা (TT টিকা) নিতে আসা প্রায় ৬০ শতাংশ নারীর বয়স মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, এসব কিশোরী মেয়েদের অধিকাংশই অল্প বয়সেই বিয়ে করেছে এবং অনেকেই মা হয়েছে বা গর্ভবতী অবস্থায় রয়েছে।
ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, কম বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের কারণে মায়েদের শরীরে নানা জটিলতা দেখা দেয়। শরীর তখনও সম্পূর্ণ পরিণত না হওয়ায় মা ও নবজাতক উভয়ের মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
কিছু কিশোরী মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেরই ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে বাবা-মা তাদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। তারা বলেন, আমরা তো নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করি নাই। সারা বাংলাদেশেই তো কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়। কাজী সাহেবরা যদি বয়স না দেখতেন, তাহলে আমাদের বিয়েই হতো না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কম বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের ফলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- শিশুর জন্মের সময় জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা ও হরমোনজনিত সমস্যা দেখা দেয়, নবজাতকের ওজন কম হয় এবং সে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ে, মানসিক চাপ ও পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেন, সমাজকে এখনই সচেতন হতে হবে। পিতা-মাতা ও অভিভাবকদের উচিত মেয়েদের কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে না দেওয়া। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গার্ডিয়ান ডে উপলক্ষে বার্তাঃ কম বয়সে বিয়ে নয়, ভবিষ্যৎ হোক উজ্জ্বল
গার্ডিয়ান ডে উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোঃ ফরহাদ হোসেন সকল অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, একজন সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তার বাবা-মা। তাই অনুরোধ করছি, আপনারা যেন আর কখনোই কোনো মেয়েকে কম বয়সে বিয়ে না দেন। তিনি আরও বলেন, কম বয়সে বিয়ে দিলে শুধু মেয়ের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিই হয় না, বরং তার শিক্ষা, স্বপ্ন ও জীবনের লক্ষ্যও নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের উচিত সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা, তাদের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকা।
গার্ডিয়ান ডে উপলক্ষে তিনি সকল গার্ডিয়ানদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের জীবনের প্রতি সচেতন হতে হবে, তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
শেষে মিয়া মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা সবাই যদি সচেতন হই এবং একসাথে কাজ করি, তাহলে খুব সহজেই সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ দূর করা সম্ভব। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো, প্রতিটি মেয়ে পাবে তার প্রাপ্য শৈশব, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ।