মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে ডেকে এনে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। পারে আদালতের বিচারক তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার রুদ্র রামপুর এলাকার মো. আবুল সরকারের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (৩৮), গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের দক্ষিণভাগ এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন, পুনসহি এলাকার মৃত ইব্রাহীম খন্দকারের ছেলে তারেক খন্দকার এবং ছৈলাদী এলাকার আবদুস সালামের ছেলে আসাদুজ্জামান ওরফে দুলাল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. জাহিদুল ইসলাম ১৯ জুন কালীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ২১(৬)২৬)। ভুক্তভোগী হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে মো. ফরহাদুল ইসলাম। তিনি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি চায়ের দোকানে কাজ করেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মো. ইমাম হোসেনের সঙ্গে বিমানবন্দরেই ফরহাদুলের পরিচয় হয়েছিল। সেই সূত্রে ইমাম হোসেন তাকে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করতেন। গত ১৬ জুন সকালে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে জানান, চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে—টঙ্গী আসতে হবে। ফরহাদুল সরল বিশ্বাসে টঙ্গী গেলে তাকে কালীগঞ্জের ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে আসতে বলা হয়। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরহাদুল সিএনজিযোগে ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে দেওপাড়া এলাকায় পৌঁছে ইমাম হোসেনকে ফোন করলে তিনি লোক পাঠানোর কথা বলে অপেক্ষা করতে বলেন। কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাত নম্বরের একটি সিএনজিতে চালকসহ দুজন এসে তাকে তুলে নিয়ে একটি বাগানবাড়িতে নিয়ে জিম্মি করে। পরে তাকে মারধর করে তার মুঠোফোন কেড়ে নেয় ওই চক্রটি। পরে ভুক্তভোগীর ভাই মো. জাহিদুল ইসলামকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দেশীয় অস্ত্র—চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি ও স্টিলের পাইপ দিয়ে তাঁকে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তার ডান পায়ের হাঁটুতে চাপাতি দিয়ে কোপায় এবং দুই হাতে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে জাহিদুল এক লাখ টাকা দিতে রাজি হলেও অপহরণকারীরা সন্তুষ্ট হয়নি। তারা তার বাবার নম্বরে ফোন করে গালিগালাজ করে এবং বিকাশে টাকা পাঠাতে চাপ দেয়। পরে তিন দফায় মোট ১৫ হাজার টাকা পাঠান জাহিদুল। ২ দিন আটকে রাখার পর ১৮ জুন রাতে ফরহাদুলকে দক্ষিণভাগের ইমরান হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও মারধর করে বলে আজ রাতই তোর জীবনের শেষ রাত। পরে ১৯ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে অপহরণকারীরা ফরহাদুলকে অটোরিকশায় করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. মাসুদ রানা শামীম সঙ্গীয় ফোর্সসহ জামালপুর এলাকায় ডিউটিরত থাকাকালীন অটোরিকশাটি আটক করে। পরে ভুক্তভোগীসহ প্রথম তিন আসামিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তল্লাশিতে এক নম্বর আসামির কাছ থেকে তিন হাজার ও দুই নম্বর আসামির কাছ থেকে দুই হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে ফরহাদুলকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ২০ জুন রাত দুইটার দিকে অভিযান চালিয়ে ৪ নম্বর আসামি মো. আসাদুজ্জামান দুলালকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীর দুটি মুঠোফোনও উদ্ধার হয়।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ জুন রাতে কালীগঞ্জে সিএনজি চালকের বেশে এক নারী যাত্রীকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছিল।