কালীগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতন, অভিযুক্ত কন্টাক্টর হানিফ পলাতক

Spread the love

মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণীর এক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে ভয় দেখিয়ে ও জিম্মি করে দফায় দফায় পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জাঙ্গালীয়া মধ্যপাড়া এলাকার হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত হানিফ দেওয়ান ভিকটিমের প্রতিবেশী চাচাতো ভাই এবং পেশায় একজন কন্টাক্টর। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সে পলাতক রয়েছে।

​নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং পেশায় অটোচালক আসাব উদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে বুধবার (৮ জুলাই) সকালে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​ভিকটিমের মা জানান, তিনি পেশায় একজন দর্জি। ঘটনার দিন অভিযুক্ত হানিফ কন্টাক্টরের স্ত্রীর সেলাই করা জামাকাপড় দিয়ে তিনি তার মেয়েকে তাদের বাড়িতে পাঠান। সে সময় হানিফের বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে সে কৌশল করে শিশুটিকে ঘরের ভেতর নিয়ে আটকে রাখে। এরপর মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ও জিম্মি করে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালায়। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে বিভিন্ন হুমকিও দেওয়া হয়। নির্যাতন শেষে শিশুটি ব্যথার যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করলে তার হাতে কিছু টাকা দিয়ে দোকান থেকে কিছু কিনে খেতে বলে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করে হানিফ। ​৩ দিন পর আবারও অমানবিকতা
​অভিযোগে জানা যায়, প্রথম ঘটনার ঠিক ৩ দিন পর শিশুটিকে পুনরায় বোতল দিয়ে দুধ আনার জন্য হানিফের বাড়িতে পাঠানো হয়। সে সময়ও আগের একই কৌশল অবলম্বন করে শিশুটিকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে দ্বিতীয় দফায় অমানবিক নির্যাতন চালায় অভিযুক্ত হানিফ। ​টানা নির্যাতনের ফলে দিন দিন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে যন্ত্রণায় কাতর মেয়েকে মা জিজ্ঞেস করলে সে চিৎকার করে কেঁদে ওঠে এবং বলে, “মা, ওদের বাড়িতে যাবা না, ওরা খারাপ মানুষ। হানিফ ভাইয়া আমার সাথে এরকম করেছে”। ​এরপরই পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর ০শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

​স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্ত কন্টাক্টর হানিফ দেওয়ান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অপকর্ম করে আসছে। ইতিপূর্বে তার বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বিচার হলেও সে কারোর তোয়াক্কা করছে না। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রভাবশালী এই কন্টাক্টর হানিফের ‘খুঁটির জোর’ কোথায়? কার ছত্রছায়ায় সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে? এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *