জুলফিকার আলী জুয়েল, গাজীপুর।
গাজীপুরে প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে চালক, তার মা, স্ত্রী ও সন্তানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গাড়িতে রাখা লেডিজ ব্যাগ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় চালকের মাথা ও তার মায়ের হাতে রক্তাক্ত জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন মোগরখাল বাইপাস মোড় এলাকায় প্রাইভেটকার থামিয়ে একটি পরিবারের চার সদস্যকে মারধর এবং গাড়ি থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ নাছির উদ্দিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি মোঃ ইমরান হোসেন (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১টার দিকে তিনি তার প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-২৫-২০৩০) নিয়ে বাসা থেকে ভুলতা গাউছিয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এ সময় গাড়িতে তার মা জাহানারা বেগম (৫০), স্ত্রী ও সন্তান ছিলেন।
অভিযোগে নাছির উদ্দিন উল্লেখ করেন, মোগরখাল বাইপাস মোড়ের পূর্ব পাশে টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে অভিযুক্তের বাড়ির এক ভাড়াটিয়া ছয় বছরের একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে অসাবধানতাবশত সড়ক পার হচ্ছিলেন। ওই নারী ও শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে তার চালিত প্রাইভেটকারটি সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা লাগে। তবে ওই নারী ও শিশুর কোনো ক্ষতি বা জখম হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এরপর গাড়িটি রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখার পর অভিযুক্ত ইমরান হোসেন অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে সঙ্গে নিয়ে গাড়ির সামনে এসে নাছির উদ্দিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা নাছির উদ্দিনসহ তার মা, স্ত্রী ও সন্তানকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে দাবি করেন নাছির।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইমরান হোসেন নাছিরের মাথা একটি খুঁটির সঙ্গে আঘাত করলে তার মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়। একই সময় নাছিরের মা জাহানারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তার ডান হাতের কনুইয়ের পাশে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ হামলার একপর্যায়ে গাড়ির সামনের দুই সিটের মাঝখানে রাখা একটি লেডিজ ব্যাগ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন নাছির উদ্দিন। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশ এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত নাছির উদ্দিন ও তার মা জাহানারা বেগম গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অভিযোগে নাছিরের হাসপাতাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭২৫০/১২ এবং তার মা জাহানারা বেগমের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭২৫১/১৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার অভিযোগকারী নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তাদের ওপর ফের হামলা চালানো বা প্রাণনাশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাছির উদ্দিন।
এ বিষয়ে বাসন থানার পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগে অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।