মোঃ ইব্রাহিম খন্দকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে টানা তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল প্রতিবাদ ও গণবিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে কালীগঞ্জ পৌরসভার কাপাসিয়া মোড় এলাকায় তুমলিয়া সমাজকল্যাণ সংঘ, স্থানীয় যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই মাদকবিরোধী মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে এলাকার মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং মাদক কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তীব্র দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই কাপাসিয়া মোড় এলাকাটি মাদক কারবারের অন্যতম আখড়া হিসেবে পরিচিত। মাঝেমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সন্ধ্যায় এলাকার যুবকেরা প্রথম মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন এবং মাদকবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (০৩ জুলাই) জুমার নামাজের পর যুবসমাজ এককাট্টা হয়ে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী অহিদের বাড়িতে গিয়ে মাদক ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করার জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা (আলটিমেটাম) দেয়। শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে সমাজের প্রবীণ বা মুরব্বি স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে কিছুটা গড়িমসি ও উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেলেও, যুবকদের এই অনমনীয় ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে চিত্র বদলে যায়। গতকাল রোববারের সমাবেশে সব বয়সী নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে, যা পুরো এলাকাকে এক মাদকবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ দিয়েছে। এলাকাবাসীর এই টানা আন্দোলনের মুখে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। মাদক নির্মূলের এই কার্যক্রমে সংহতি জানিয়ে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা।
জনগণের এই গণজাগরণের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই যৌথ তৎপরতায় বেশ কয়েকজন মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সমাবেশে স্থানীয় কাউন্সিলর, যুবনেতা ও সমাজসেবকরা বক্তব্যে বলেন, ”আমরা আমাদের এলাকাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে এই মাটিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না।”
এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সাম্প্রতিক ভূমিকাকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি, যেন এই অভিযান মাঝপথে থেমে না যায় এবং কাপাসিয়া মোড় এলাকাটি স্থায়ীভাবে মাদকমুক্ত হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন।