হাসমত আলী, কাশিমপুর (গাজীপুর)
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানা এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭৪ গ্রাম হেরোইনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আরও তিনজন পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ আদালতে চালান দেওয়ার সময় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি আলাল ও দুলাল দাবি করেন, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে থানার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা (উৎকোচ) আদায় করেন। তাদের এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের অভিযান ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশিমপুর থানার এসআই মো. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কাশিমপুর নয়াপাড়া রওশন মার্কেট এলাকায় মরিয়মের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে আলাল (৪৫), দুলাল (৪২) ও মরিয়ম (৪৫)-কে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে মোজার মিল এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে নাসিমা খাতুন (৩৫) ও ফরিদা ফজলি (৪২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মোট ৭৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে আলালের কাছ থেকে ১১ গ্রাম, দুলালের কাছ থেকে ১০ গ্রাম, নাসিমার কাছ থেকে ২৭ গ্রাম এবং ফরিদা ফজলির কাছ থেকে ২৬ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তারকৃত আলাল ও দুলালকে আদালতে পাঠানোর সময় তারা অভিযোগ করেন, রিপন, মামুন, সহেল, জেসমিন, জহুরা, মিঠু, লক্ষ্মী, এরা মূলত মাদকের ডিলার এরা প্রতিনিয়ত মাদক বিক্রি করে এবং বড় বড় মাদকের চালান দেয়। তাদেরকে পুলিশ কিছুই বলে না তার কারণ থানার নামে মাসোয়ারা নিয়ে আসে, বাবু, লাল মিয়া, শুভ ও রহিম নামের পুলিশের সোর্স এই কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে থানার নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করেন। তাদের দাবি, মাসোহারা দেওয়ার কারণেই অনেক মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করার সাহস পায়। তবে আসামিদের এই অভিযোগের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যদি থানার নাম ব্যবহার করে কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাদের ভাষ্য, মাদক ব্যবসা যেমন সমাজের জন্য ভয়াবহ, তেমনি মাদক কারবারিদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ বা থানার নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায় করলে তা অপরাধ দমনের পুরো ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা খালিদ জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া হেরোইন জব্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।