সফল উদ্যোক্তা, মেকআপ আর্টিস্ট ও সমাজসেবক রোকসানা নিহার অনুপ্রেরণার গল্প

Spread the love

মো. আবদুল করিম সোহাগ, ঢাকা


পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্ববোধ—এই তিন শক্তিকে পুঁজি করে নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছেন নারী উদ্যোক্তা রোকসানা নিহা। শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে একসাথে ধারণ করে তিনি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা, দক্ষ মেকআপ আর্টিস্ট এবং নিবেদিত সমাজসেবক হিসেবে।


ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পলিটিক্যাল সায়েন্সে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি নিজেকে শুধু একাডেমিক ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। নিজের আগ্রহ ও সৃজনশীলতাকে পেশায় রূপ দিয়ে শুরু করেন এক নতুন যাত্রা। সেই যাত্রার ফসল তার প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ব্র্যান্ড “মালিয়াত ফ্যাশন”। তার কাছে এই ব্র্যান্ড কেবল পোশাকের ব্যবসা নয়; বরং এটি নারীর আত্মবিশ্বাস, রুচি ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম।


একই সঙ্গে রোকসানা নিহা একজন ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফাইড মেকআপ অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্ট। তার দৃষ্টিতে সৌন্দর্য মানে শুধু বাহ্যিক সাজসজ্জা নয়, বরং মানুষের ভেতরের আত্মবিশ্বাসকে ফুটিয়ে তোলার শিল্প। “Beauty Canvas by Niha” নামের তার পেইজে তিনি রূপসজ্জাকে শিল্পের মর্যাদায় উপস্থাপন করেন, যেখানে প্রতিটি কাজ তার সৃজনশীলতার স্বাক্ষর বহন করে। পেশাদারিত্ব ও কাজের মানের জন্য ইতোমধ্যে তার টিম বিভিন্ন সংগঠন থেকে সম্মাননা অর্জন করেছে।


ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। এই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন “মালিয়াত ফাউন্ডেশন”। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ছোট পরিসরে সহায়তা প্রদান এবং সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি ধীরে ধীরে একটি মানবিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তার বিশ্বাস, প্রকৃত সৌন্দর্য মানুষের মানবিক আচরণেই প্রকাশ পায়।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আশাবাদী রোকসানা নিহা। তিনি চান “মালিয়াত ফাউন্ডেশন” একদিন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি পাক। পাশাপাশি নিজের কাজের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চান—একজন নারী চাইলে একই সঙ্গে উদ্যোক্তা, শিল্পী ও সমাজসেবক হিসেবে সফলভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।


রোকসানা নিহার পথচলা শুধু একজন মেকআপ এক্সপার্ট বা ব্যবসায়ীর গল্প নয়; এটি একজন আত্মনির্ভর, স্বপ্নবাজ নারীর অনুপ্রেরণামূলক গল্প, যিনি সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও মানবিকতাকে একসূত্রে গেঁথে এগিয়ে চলেছেন। তার এই যাত্রা আগামী প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *