শ্রমিকের হাতে মালিক খুন

Spread the love

হাবিবুর রহমান (রিপোর্টার)

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ঘটে গেছে এক নির্মম, হৃদয়বিদারক ও অমানবিক হত্যাকাণ্ড। রাতের নিস্তব্ধতায় নিজ ঘরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। হত্যার পর ঘর থেকে লুট করা হয়েছে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার। এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভ।

নিহতরা হলেন বাসাইল উপজেলার গোসাখালী গ্রামের বাসিন্দা ঠান্ডু মিয়া (৭৫) ও তার স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৭০)। বৃদ্ধ এই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জমিতে কাজ করানোর জন্য করটিয়া এলাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন দিনমজুর শ্রমিককে বাড়িতে এনে রাখেন ঠান্ডু মিয়া। সেই শ্রমিকরাই রাতের আঁধারে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, গত রাতে শ্রমিকরা ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে ঠান্ডু মিয়া পেটে ব্যথার কথা জানালে তারা নিজেদের সঙ্গে থাকা ওষুধ খেতে দেয়। কিন্তু সকালে দম্পতি ঘুম থেকে না উঠলে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। ঘরে ঢুকে দেখা যায়, দু’জনই বিছানায় নিথর পড়ে আছেন এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দম্পতির নাতি কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, আমি রাতে বাড়ির বাইরে মোবাইলে গেম খেলছিলাম। তখন দেখি শ্রমিকরা বারবার ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঢুকছে। সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করলে বলে, দাদার পেটে সমস্যা। আমি বিশ্বাস করে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি বাড়িতে মানুষের ভিড়। দাদু-দাদির ঘরে ঢুকে দেখি গলায় দাগ—উড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওরা আমার দাদা-দাদিকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

স্থানীয়দের দাবি, হত্যার পর ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে শ্রমিকরা পালিয়ে গেছে। যে ঘরে একদিন নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের জায়গা ছিল, সেই ঘরেই বৃদ্ধ দম্পতির এমন করুণ মৃত্যু এলাকাবাসীকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। দিনমজুর শ্রমিকের হাতে মালিকের প্রাণহানির এই ঘটনা শুধু একটি হত্যা নয়—এটি মানবিক মূল্যবোধের ভয়াবহ অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *