গাজীপুরে সেমিনারঃ জাতীয়ভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের দাবি।

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গাজীপুরে ২১শে ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ পালনের অপরিহার্যতা শীর্ষক সেমিনার। ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে গাজীপুরে ‘বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে ‘‘বাংলা ভাষা দিবস’’ পালনের অপরিহার্যতা শীর্ষক’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর, ২০২৫) বিকেল ৪টায় গাজীপুর মিডিয়া সেন্টারে বাংলা ভাষা আন্দোলন পরিষদ, সাহিত্য অমনিবাস ও গাজীপুর মিডিয়া সেন্টরের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ভাষা আন্দোলন পরিষদের সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ আহসান হাবীব। সেমিনারে গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলা ভাষা দিবস বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও সাহিত্য অমনিবাসের সাধারণ সম্পাদক সাবা বিনতে মুরতাজ। তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে ১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ১১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ পালিত হতো। ১৯৫৬ সালে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেলেও ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস হিসেবে সরকারি ছুটি দেওয়ার পর ভাষা দিবস হিসেবে পালনের ঐতিহ্যটি পাকিস্তানি ব্যুরোক্রেসির জটিলতায় হারিয়ে যায়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা ভাষা দিবস বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক জুলীয়াস চৌধুরী। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের মূল প্রেরণা ছিল বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। রাষ্ট্রভাষা বাংলা সেই পাকিস্তান আমলে অর্জিত হলেও, স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বস্তরে বাংলা আজও চালু করা গেলো না। এমনকি, যে ভাষার জন্য এত বড় নজিরবিহীন সংগ্রাম, সেই বাংলা ভাষার সম্মানে একটি বিশেষ দিন নেই।

সেমিনারে বক্তব্য দেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. নাসিমুল বারী। তিনি বলেন, সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম, ভাষা শহীদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাহিত্যক মুকুল কুমার মল্লিক, গাজীপুর সরকারী মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও আয়েশা আখতার, কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আফজাল হোসেন, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু বক্কর ভূঁইয়া এবং সাংবাদিক ও অভিনেতা মো. মজিবুর রহমান রানা গাজী।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শীমা রানী মন্ডল ও মো. মাসুম বিল্লাহ, কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সামিনা চৌধুরী শুভ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও রুকসানা শিরিন, পূবাইল আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান আবুল হেসেন চৌধুরী, বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক মফিজুল ইসলাম মাহফুজ, সুনজরের সম্পাদক প্রিন্সিপাল হুমায়ূন আহমেদ, গাজীপুর সেন্টাল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াহাব রিংকু, কবি, লেখক, ও ইনভেন্ট পাবলিকেশনের প্রকাশক শেখ নজরুল ইসলাম, ভাষা শহীদ বরকত পরিবারের সদস্য আইন উদ্দিন বরকত টুটুল, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খাজা নাসির উদ্দীন, বন্ধু মহল শিল্পী সংস্থার চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া, দশ দিগন্ত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, চন্দ্র বিন্দু থিয়েটারের চেয়ারম্যান নাদিম মন্ডল, সুর তরঙ্গের চেয়ারম্যান সামান আলী, ভাওয়াল থিয়েটারের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বারী, স্রোতধারা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অমল কৃষ্ণ রায় এবং দিগন্ত থিয়েটারের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *